স্টাফ রিপোর্টার, ০৩ অক্টোবর ২০২৪(বিবিনিউজ): বুধবার সাভারের আশুলিয়ার বার্ডস গ্রুপের চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কারখানা কতৃপক্ষ। রাত ১০ টার দিকে বার্ডস গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফা আনোয়ার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস শাহরিয়ার সাদাত আনোয়ার পাওনা পরিশোধের এ আশ^াস দেন। শিল্প পুলিশ জানায়, গেল ২৭ আগষ্ট বিদেশ থেকে কাজের অর্ডার না আসায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার বার্ডস গ্রুপের চারটি তৈরি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করে মালিকপক্ষ। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্ডস গ্রুপের চারটি তৈরি পোশাক কারখানাগুলো ছিলো বার্ডস আর এন আর ফ্যাশন লিমিটেড, বার্ডস গার্মেন্টস লিমিটেড, বার্ডস ফেডরেক্স লিমিটেড এবং বার্ডস এ এন্ড জেড লিমিটেড। পরে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার আশ^াস দিলেও কারখানা কতৃপক্ষ তা আর প্রদান করেনি। পরে কারখানা বন্ধ করার ফলে তিন মাসের বেতনের দাবিতে সোমবার সকাল নয়টা থেকে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। যার ফলে মহাসড়কে ৫২ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে গতকাল দুপুর এক টার দিকে যৌথ বার্ডস গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফা আনোয়ার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস শাহরিয়ার সাদাত আনোয়ারকে কারখানায় হাজির করার আশ^াস দেন । পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে কারখানায় চলে যান। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহম্মদ মুইদ জানান,পরে যৌথবাহিনী বার্ডস গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফা আনোয়ার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস শাহরিয়ার সাদাত আনোয়ার ও পরিচালক লুনাকে আটক করে এনে আলোচনা কওে রাতে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে হাজির করে আগামী বুধবার বেতন পরিশোধের আশ^াস দিলে শ্রমিকরা রাত সাড়ে দশটার দিকে কারখানা থেকে চলে যান। তবে কারখানা কবে নাগাদ চালো হবে তা জানায়নি।
তবে শিল্পাঅঞ্চল সাভার,ধামরাই ও আশুলিয়ায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদান করেছেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের জিরানী ও কাঠগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা । আজ বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি কারখানা খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ওই সব কারখানার শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগদান করেছে।
আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর জিরাবো ও কাঠগড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কারখানার সামনে নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে আছেন। তবে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় এখনো সাতটি তৈরি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও কারখানায় প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় ১১ টি কারখানা সকালে ছুটি ঘোষনা করেছে মালিকপক্ষ। মোট ১৮৬৩টি কারখানার আজও ১৫টি বন্ধ রয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরা সকালে স্বতফুর্তভাবে কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগদান করায় কোথাও কোনো অপ্রীতকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে টহল ছাড়াও কারখানার সামনে যৌথ বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
